• ঢাকা
  • বৃহঃস্পতিবার , ২০ জুন ২০২৪ , রাত ০৯:০৮
ব্রেকিং নিউজ
হোম / জাতীয়

তিস্তার পানি চুক্তি আরও অনিশ্চিত হল?

রিপোর্টার : নিজস্ব প্রতিবেদক :

৬৫ বার দেখা হয়েছে ।

তিস্তার পানি চুক্তি আরও অনিশ্চিত হল? ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ

ভারতের লোকসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। আগামী রোববার নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করবে। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ জোট সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এই সরকার আগের সরকারের চেয়ে দুর্বল হবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলে মনে করছেন। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির ইচ্ছা অনিচ্ছায় সব কিছু হবে না। সব ক্ষেত্রেই তাকে জোটদের পরামর্শ শুনতে হবে। তাদেরকে খাতির যত্ন করেই নরেন্দ্র মোদিকে আগামী পাঁচ বছর দেশ চালাতে হবে। 

শুধু যে জোটের শরিকদেরকে নরেন্দ্র মোদিকে সামাল দিতে হবে এমন না, বিরোধী জোটকেও তার সামাল দিতে হবে। কারণ এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস যেমন ৯৯ আসন পেয়ে একক বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, বিরোধী দলের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেছে, তেমনি পশ্চিম বাংলায় মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। সেখানে নরেন্দ্র মোদির বিজেপিকে প্রায় নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু এই নির্বাচনের যে ফলাফল বিন্যাস এবং সমীকরণ তাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অমীমাংসিত তিস্তার পানি চুক্তি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 

নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনের আগে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনের পরপর তিনি তিস্তার পানি চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করবেন। এ নিয়ে দু দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশ সফর করেছিলেন এবং তখনও তিনি বলেছিলেন যে, নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরে তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু এখন যে রাজনৈতিক সমীকরণে ভারত দাঁড়িয়ে, সেখানে তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবার সম্ভাবনা প্রায় উড়ে গেছে। 

তিস্তার পানি চুক্তির প্রধান বাধা হলেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি মনে করেন যে, তিস্তার পানি চুক্তি হলে পশ্চিমবাংলার একটা বিপুল অংশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। পানিশূন্যতায় ভুগবে এবং এই অঞ্চলের ক্ষতি হবে। এ কারণেই তিনি পানি চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন। 

কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ক্ষমতার শেষ মেয়াদে এই চুক্তি চূড়ান্ত করার পরও মমতা ব্যানার্জির বাধার কারণে তা শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। এরপর নরেন্দ্র মোদি এবং নরেন্দ্র মোদির দুই মেয়াদেও তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে দেনদরবার হয়েছে কিন্তু মমতা ব্যানার্জি তার অনড় অবস্থান থেকে সরে আসেননি। যে কারণে নরেন্দ্র মোদিও এই বিষয়ে কিছু করতে পারেননি। যদিও তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বহুমাত্রিক ব্যবস্থা করেছেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিঃসন্দেহে একটি নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। কিন্তু তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে একটি রাজনৈতিক অস্বস্তি রয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করে যে, ভারত তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সাথে ন্যায়নিষ্ঠ আচরণ করছে না। আর এই কারণেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য তিস্তার পানি চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। 

ধারণা করা হয়েছিল যে, এ বারের নির্বাচনে মোদি পশ্চিমবাংলায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবেন এবং ৪০০ আসনের স্বপ্ন দেখা বিজেপি ভারতে একটি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে এবং এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলে শেষ পর্যন্ত তিস্তার পানি চুক্তি হবে। কিন্তু তিস্তার পানি চুক্তির একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল যে, শুধুমাত্র কেন্দ্র চাইলেই হবে না, এখানে পশ্চিমবাংলার অনুমোদন লাগবে। কিন্তু পশ্চিমবাংলার নিয়ন্ত্রণ মমতা ব্যানার্জির হাতে। আর এ বারের নির্বাচনের পর মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবাংলায় আরও শক্তিশালী হলেন। কিজেপির সাথে এখন তার সম্পর্ক আরও বৈরী। এই অবস্থায় নরেন্দ্র মোদি কী পারবেন তিস্তা পানি চুক্তি সম্পন্ন করতে নাকি তিস্তা পানি চুক্তি অনিশ্চিত হয়ে গেল?


জাতীয়

আরও পড়ুন